জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফেরার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষা। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তিযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘ই’ ইউনিটের প্রবেশপত্র প্রকাশ করেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬
ভর্তি সংক্রান্ত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ‘ই’ ইউনিটের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। ১৩ ডিসেম্বর এই ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়েই শুরু হবে জবির ভর্তি উৎসব। তবে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতার চিত্রটি বেশ ভয়াবহ। ২ হাজার ৮১৫টি আসনের বিপরীতে প্রায় ২ লাখ আবেদন জমা পড়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের শিক্ষা ডেস্ক থেকে আজকের এই মেগা গাইডে আমরা জবি ভর্তির রুটিন, প্রবেশপত্র ডাউনলোডের নিয়ম, নতুন মানবণ্টন এবং প্রতিযোগিতার পরিসংখ্যান নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করব।
একনজরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ার মূল পরিসংখ্যানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- মোট আসন সংখ্যা: ২,৮১৫টি।
- মোট আবেদনকারী: ১,৯৯,৯৫৪ জন।
- আসন প্রতি প্রতিযোগী: গড়ে ৭১ জন।
- ভর্তি পরীক্ষা শুরু: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ (ই-ইউনিট)।
- পরীক্ষার পদ্ধতি: এমসিকিউ (MCQ)।
- প্রবেশপত্র ডাউনলোড: jnu.ac.bd/admission
ই-ইউনিটের প্রবেশপত্র ও ডাউনলোডের সময়সীমা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চারুকলা অনুষদের (ই-ইউনিট) ভর্তিচ্ছুরা এখন থেকেই তাদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদনকারীরা ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
- শেষ সময়: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
- পরীক্ষার তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫।
- সময়: বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে রঙিন প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করার জন্য। পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে অনুমতি দেওয়া হবে না। অন্যান্য ইউনিটের প্রবেশপত্র পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় আগে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
ইউনিট ভিত্তিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি
Exam Routine: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবার ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইউনিটের পরীক্ষা গ্রহণ করবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পূর্ণাঙ্গ রুটিন নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| ইউনিট | অনুষদ | পরীক্ষার তারিখ | সময় |
| ই-ইউনিট | চারুকলা অনুষদ | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩:০০ PM – ৪:৩০ PM |
| এ-ইউনিট | বিজ্ঞান ও লাইফ সায়েন্স | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:০০ AM – ১২:০০ PM |
| সি-ইউনিট | ব্যবসায় শিক্ষা | ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:০০ AM – ১২:০০ PM |
| ডি-ইউনিট | সামাজিক বিজ্ঞান | ৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০০ AM – ১২:০০ PM |
| বি-ইউনিট | কলা ও আইন | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ৩:০০ PM – ৪:৩০ PM |
কেন্দ্র বন্টন: শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিজ্ঞান (এ) এবং কলা ও আইন (বি) ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকা ছাড়াও কুমিল্লা, খুলনা এবং রাজশাহীর বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে সি, ডি এবং ই ইউনিটের পরীক্ষা শুধুমাত্র ঢাকা শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আসন বিন্যাস পরীক্ষার ২৪-৪৮ ঘণ্টা আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
আবেদনের পরিসংখ্যান: আসন প্রতি ৭১ জনের লড়াই
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতার মাত্রা কতটা তীব্র হবে, তা আবেদনের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ মো. গিয়াসউদ্দিন জানান, মোট ২,৮১৫টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ৯৯,৯৫৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি আসনের জন্য লড়বেন ৭১ জন শিক্ষার্থী।
ইউনিট ভিত্তিক আবেদনের চিত্র ও কেন্দ্র বিশ্লেষণ
১. এ ইউনিট (বিজ্ঞান ও লাইফ সায়েন্স): এই ইউনিটে মোট আবেদন পড়েছে ৭২,৪৬৩টি। বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
- ঢাকা কেন্দ্র: ৫৫,৪৭৪ জন।
- রাজশাহী কেন্দ্র: ৯,৬৩২ জন।
- খুলনা কেন্দ্র: ৩,৯৪২ জন।
- কুমিল্লা কেন্দ্র: ৩,৪১৫ জন।
২. বি ইউনিট (কলা ও আইন): সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা হবে এই ইউনিটে। মোট আবেদন জমা পড়েছে ৭৯,৭৯৬টি।
- ঢাকা কেন্দ্র: ৫৪,২৮২ জন।
- রাজশাহী কেন্দ্র: ১৪,৯১২ জন।
- খুলনা কেন্দ্র: ৬,৩২৫ জন।
- কুমিল্লা কেন্দ্র: ৪,২৭৭ জন।
৩. অন্যান্য ইউনিট:
- সি ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা): আবেদন ২০,৬৮৪ জন।
- ডি ইউনিট (সামাজিক বিজ্ঞান): আবেদন ২৫,৮২০ জন।
- ই ইউনিট (চারুকলা): ১,২৫১ জন প্রতিযোগী।
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, জবিতে চান্স পেতে হলে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও কলা ইউনিটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
পরীক্ষার মানবণ্টন ও নতুন পদ্ধতি
Mark Distribution: গত বছর লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।
নম্বরের বিভাজন
- মোট নম্বর: ১০০।
- এমসিকিউ পরীক্ষা: ৭২ নম্বর।
- এসএসসি জিপিএ: ১০ নম্বর।
- এইচএসসি জিপিএ: ১৮ নম্বর।
এমসিকিউ পরীক্ষার নিয়মাবলি
ইউনিট-এ, বি, সি, ডি-এর পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা। ইউনিট-ই-এর পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
- প্রশ্ন সংখ্যা: এ, বি, সি, ডি ইউনিটের জন্য ৩টি বিষয়ে পরীক্ষা হবে। প্রতিটি বিষয়ের নম্বর ২৪ (২৪ x ৩ = ৭২)।
- ই-ইউনিট: প্রতিটি বিষয়ের নম্বর ৯ (২৭ নম্বরের এমসিকিউ)।
- প্রতিটি প্রশ্নের মান: ০.৭৫ নম্বর।
- নেগেটিভ মার্কিং: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে এবং তা বিষয়ভিত্তিক সমন্বয় করা হবে।
ব্যবহারিক পরীক্ষার শর্ত
কিছু বিশেষায়িত বিভাগের জন্য এমসিকিউ-এর পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষাও দিতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট হারে ফি প্রযোজ্য হবে, যা পরবর্তীতে জানানো হবে।
- ই-ইউনিট (চারুকলা): ২৭ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪৫ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা (ড্রয়িং)।
- সংগীত, নাট্যকলা ও ফিল্ম: বি ইউনিটের সংগীত ও নাট্যকলা এবং ডি ইউনিটের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে ভর্তিচ্ছুদের এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফলের পর মেধাতালিকার ভিত্তিতে ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তের পরামর্শ
পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় এখন নতুন কিছু পড়ার চেয়ে রিভিশনে জোর দেওয়া উচিত। ১. নেগেটিভ মার্কিং: যেহেতু ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে, তাই নিশ্চিত না হয়ে উত্তর দাগানো থেকে বিরত থাকুন। প্রতিটি ভুলের জন্য আপনি পিছিয়ে পড়তে পারেন। ২. সময় ব্যবস্থাপনা: ৬০ মিনিটে ৭২ নম্বরের উত্তর করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ মিনিটেরও কম সময় পাওয়া যাবে। দ্রুত এবং নির্ভুল উত্তর দেওয়ার অভ্যাস করুন। ৩. কেন্দ্র পরিচিতি: যারা ঢাকার বাইরে বা নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন, তারা আগের দিনই কেন্দ্রের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে নিন। যানজট এড়াতে হাতে সময় নিয়ে বের হোন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে কী করব? উত্তর: সার্ভার ব্যস্ত থাকলে রাতে বা ভোরে চেষ্টা করুন। সমস্যা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।
প্রশ্ন ২: ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে কি? উত্তর: সাধারণত ভর্তি পরীক্ষায় সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি থাকে না, তবে সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রবেশপত্রের নির্দেশাবলি দেখে নিশ্চিত হোন।
প্রশ্ন ৩: আসন বিন্যাস কবে জানা যাবে? উত্তর: পরীক্ষার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে সিট প্ল্যান জানানো হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬ শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের এক বিশাল মঞ্চ। গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসার পর জবি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে এই আয়োজন করছে। ২ লাখ শিক্ষার্থীর স্বপ্নের এই লড়াইয়ে যারা স্নায়ুচাপ সামলে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে পারবে, বিজয় তাদেরই হবে। ১৩ ডিসেম্বর ই-ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসব শেষ হবে ৩০ জানুয়ারি।
ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট, সিট প্ল্যান এবং ফলাফলের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
আরও পড়ুন: স্টুডেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম: সেরা ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র



1 thought on “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: ই-ইউনিটের প্রবেশপত্র প্রকাশ, আসন প্রতি লড়বে ৭১ জন”