ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬: বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের শিখরে থাকে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পাসের একটি আসনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন। আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬ শিক্ষার্থীদের জন্য সেই স্বপ্নের দুয়ার খোলার বার্তা নিয়ে আসছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং গোছানো প্রস্তুতিই কেবল এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬
যদিও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য তারিখ, যোগ্যতা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখা জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আদ্যোপান্ত এবং প্রস্তুতির সঠিক রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করব।
ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয়। ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের হাতে খুব বেশি সময় নেই, এখন থেকেই প্রস্তুতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে হবে। অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার জিপিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিটভেদে এই যোগ্যতার কিছুটা ভিন্নতা থাকে। বিগত বছরের আলোকে সম্ভাব্য যোগ্যতা নিচে তুলে ধরা হলো:
বিজ্ঞান ইউনিট (ক ইউনিট): বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে মোট জিপিএ ন্যূনতম ৮.০০ হতে হবে (চতুর্থ বিষয়সহ)। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫০-এর নিচে গ্রহণযোগ্য নয়।
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (খ ইউনিট): মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা এই ইউনিটে পরীক্ষা দিতে চান, তাদের জন্যও নির্দিষ্ট জিপিএ শর্ত পূরণ করতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (গ ইউনিট): ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ থাকা আবশ্যক।
চারুকলা ইউনিট (চ ইউনিট): এই ইউনিটে আবেদনের জন্য সাধারণত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে মোট জিপিএ ৬.৫০ থেকে ৭.০০ চাওয়া হয়।
ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এখন আর শুধুমাত্র এমসিকিউ (MCQ) নির্ভর নয়। শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য লিখিত এবং এমসিকিউ—উভয় পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এমসিকিউ অংশ (৬০ নম্বর): এই অংশে প্রতিটি বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান যাচাই করা হয়। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়, তাই আন্দাজে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
লিখিত অংশ (৪০ নম্বর): এখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং বিশ্লেষণধর্মী ক্ষমতা যাচাই করা হয়। বাংলা ও ইংরেজি লেখার দক্ষতা এখানে বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।
এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএ-র ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। অর্থাৎ মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়।
ইউনিটভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল
প্রতিটি ইউনিটের প্রশ্নের ধরণ এবং বিষয়বস্তু আলাদা। তাই প্রস্তুতির কৌশলও হতে হবে সুনির্দিষ্ট।
বিজ্ঞান ইউনিট: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত এবং জীববিজ্ঞানের মূল বইয়ের (Textbook) ওপর সম্পূর্ণ দখল থাকতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধানের পাশাপাশি গাণিতিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের টেকনিক আয়ত্ত করা জরুরি।
কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট: এই ইউনিটের জন্য বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার ও ভোকাবুলারি এবং সাধারণ জ্ঞানের (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) ওপর গভীর দখল থাকা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বিষয়াবলি এবং মৌলিক জিকে-তে বিশেষ জোর দিতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট: হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স এবং মার্কেটিংয়ের মূল বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। গাণিতিক সমস্যা এবং তাত্ত্বিক উভয় অংশেই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আবেদন প্রক্রিয়া ও জরুরি লিংক
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের সদ্য তোলা ছবি, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদন ফি জমা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিং বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা যায়।
আবেদন এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ভর্তি ওয়েবসাইট admission.eis.du.ac.bd ভিজিট করতে হবে। নিয়মিত এই সাইটটি চেক করা বুদ্ধিমানের কাজ।
শেষ মুহূর্তের পরামর্শ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬ প্রকাশের অপেক্ষায় সময় নষ্ট না করে আজই আপনার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করুন। পাঠ্যবইয়ের খুঁটিনাটি পড়া, নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। মনে রাখবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল মেধাবীদের নয়, বরং পরিশ্রমী ও কৌশলী শিক্ষার্থীদের জায়গা। আপনার স্বপ্ন জয়ের প্রস্তুতি হোক নিখুঁত।
আরও পড়ুন: ভিকারুননিসা নূন স্কুলের রোববারের সব পরীক্ষা স্থগিত: জানুন বিস্তারিত
1 thought on “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬: পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন, যোগ্যতা ও প্রস্তুতি কৌশল”